Sunday, 3 May 2020

জে এস সি তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রশ্নঃ২


প্রশ্ন : ‘তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে একজন কর্মী অনেক বেশি দক্ষ হয়ে ওঠে।’ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিপুল বিকাশের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানা ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। এর বিকাশের শুরুর দিকে ধারণা করা হতো স্বয়ংক্রিয়করণ এবং প্রযুক্তির প্রয়োগের ফলে বিশ্বব্যাপী কাজের পরিমাণ কমে যাবে এবং বেকারের সংখ্যা বেড়ে যাবে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে কিছু কিছু সনাতনী কাজ বিলুপ্ত হয়েছে বা বেশ কিছু কাজের ধারা পরিবর্তন হয়েছে বটে, তবে অসংখ্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এই পরিবর্তিত ও নতুন কাজের ক্ষেত্রগুলোতে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার জন্য কর্মীরা ক্রমাগত নিজেদের তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করছে, কাজ শিখছে ও দক্ষ হচ্ছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করিয়ে নিতে পারে।

বাঙালি শিক্ষাবিদ ও বর্তমান আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক ড. ইকবাল কাদিরের মতে, প্রযুক্তিতে জনগণের সংযুক্তি বাড়লে তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ে। ফলে তৈরি হয় নতুন নতুন কর্মসংস্থান। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কর্মীরা দক্ষ হয়ে ওঠার

কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো :

১. পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার জন্য কর্মীরা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করেছে।

২. কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণগুলোতে অংশগ্রহণ করছে, কাজ শিখছে। আর এভাবে নিজেদের ক্রমাগত দক্ষ করে তুলছে।

৩. কর্মীরা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ও রোবট পরিচালনার কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে করছে, যার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো সহজেই নিখুঁতভাবে করতে পারছে।

৪. কম্পিউটারের সাহায্যে অনেক কাজই এখন সহজে করে ফেলা যায়, যা বিশেষ দক্ষতা না থাকলে আগে করা যেত না। যেমন ফটোগ্রাফি বা ভিডিও এডিটিং। ফলে কম সময়ে কর্মীরা বেশি কাজ করতে পারছে।

৫. তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত কাজগুলোতে দক্ষ হয়ে অনেকেই এখন ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন ভার্চুয়াল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অনেকে নিজেদের কর্মক্ষেত্র খুঁজে নিচ্ছে, বেকারত্ব দূর করছে ও স্বাবলম্বী হচ্ছে।

0 comments:

Post a Comment